ডা. আতাউর রহমান
[সুস্থ ও তারুণ্যদীপ্ত দেহ-মনের জন্যে বহুলাংশে প্রয়োজন একটি জোরদার ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আর এই দেহ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তুলতে চাই আমাদের সচেতন প্রচেষ্টা। দৈনন্দিন জীবন অভ্যাসে নিতান্তই ছোট ছোট কিছু পদক্ষেপ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে করে তুলতে পারে অধিকতর কার্যকরী। তেমনই কিছু করণীয় ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হবে স্বাস্থ্যবিষয়ক এই রচনায়।]
পর্ব: ০৬
১৬. চাই মজবুত (!) সালাদ :
সালাদ, সে যে বেলাতেই খান, নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যকর। পুষ্টিবিদরা বলছেন, সালাদে যোগ করুন জলপাই কিংবা বাদাম তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেল। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, সালাদে এসব ডায়েটারি ফ্যাট যুক্ত হলে সালাদটা ভালো হজম হয় এবং সালাদের বিভিন্ন উপাদানে থাকা নানা রোগ প্রতিরোধী পুষ্টি উপাদানগুলো শরীর কার্যকরভাবে গ্রহণ করতে পারে।
এ গবেষণায় গবেষকদল কিছু মানুষকে টানা ১২ সপ্তাহ ধরে সালাদ খেতে দেন এবং প্রতিবার খাওয়ার পরই তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। দেখা গেছে, যারা এসব তেল সহযোগে সালাদ ড্রেসিং করেছে তাদের শরীরে ক্যারোটিনয়েডগুলো তুলনামূলক ভালোভাবে শোষিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যারোটিনয়েডে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর।
তাই সালাদ প্রস্তুত ও পরিবেশনে যোগ করুন স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যেমন : অলিভ অয়েল, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, সানফ্লাওয়ার অয়েল, ফ্ল্যাক্সসিড অয়েল বা তিসির তেল, তিলের তেল, বাদামের তেল ইত্যাদি।
১৭. দরকারি পুষ্টি উপাদানে চনমনে দেহ :
প্রতিদিনের খাবারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান ঠিক রাখতে ভিটামিন এ ও সি-র পাশাপাশি রাখতে হবে সেলেনিয়াম, ভিটামিন ই ও জিংক সমৃদ্ধ খাবারও।
সেলেনিয়াম একটি শক্তিশালী খনিজ, যা শরীরে ন্যাচারাল কিলার সেলের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধিতা তীব্র করে। রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি থাইরয়েড গ্ল্যান্ড ও হৃৎস্বাস্থ্যের পক্ষেও এটি উপকারী। বয়সজনিত স্মৃতিভ্রষ্টতা ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। আবেগীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। বাদাম (বিশেষত ব্রাজিল নাট), বিভিন্ন ধরনের বীজ, হোল গ্রেইন বা পূর্ণ খাদ্যশস্য, সামুদ্রিক খাবার, ডিমের কুসুম, সূর্যমুখীর বীজ ও রসুন সেলেনিয়ামের ভালো উৎস।
ভিটামিন ই ন্যাচারাল কিলার সেলের উৎপাদন বাড়ায়, যা ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ও ক্যান্সার সেলের বিনাশ ঘটায়। ত্বক ভালো রাখে। বার্ধক্যগতিকে ধীর করে। ভিটামিন ই মেলে যেসব খাবারে, সেগুলো হলো : অ্যাভোকাডো, বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ, ওটস, অপরিশোধিত তেল ইত্যাদি।
জিংক রোগ প্রতিরোধে সহায়ক শ্বেতকণিকা বিশেষত লিম্ফোসাইট উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে তাই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যে-কোনো ক্ষত সারাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে জিংক। সাধারণ ঠান্ডা-সর্দি নিরাময়েও এটি কার্যকরী। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যোগাযোগ-দক্ষতা, স্মৃতি সংরক্ষণ ও কোনোকিছু শেখার ক্ষেত্রে জিংকের ভূমিকা রয়েছে। গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে মহিলাদের প্রয়োজন হতে পারে অতিরিক্ত জিংক। চোখের রেটিনায় কোষক্ষয় প্রতিরোধ করে এটি। পুরুষদের শুক্রাণু সংখ্যা ও উর্বরতা ঠিক রাখতেও জিংকের ভূমিকা রয়েছে। চর্বিহীন মাংস, আদা, মিষ্টিকুমড়ার বীজ, ব্রাজিল নাট, মাশরুম ও পূর্ণ খাদ্যশস্য জিংকের ভালো উৎস।
১৮. আয়রনের ঘাটতি নয় :
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে উদ্দীপ্ত করে। রোগ প্রতিরোধী শ্বেতকণিকা ও অ্যান্টিবডি উৎপাদনে আয়রনের ভূমিকা অপরিহার্য। বছরজুড়ে ঠান্ডা-সর্দি ও নানা প্রকার সংক্রমণ কারো কারো লেগেই থাকে, এর অন্যতম কারণ শরীরে অপর্যাপ্ত আয়রন। আর আয়রনের ঘাটতিতে বাড়ে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার ঝুঁকি। ফলে লোহিত কণিকা দেহের বিভিন্ন কোষ-কলায় প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না। ফলশ্রুতিতে দেখা দিতে পারে ক্লান্তি-অবসাদ, শ্বাসকষ্ট ও মাড়িতে রক্তপাত।
আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে ভালো উৎস হলো : চর্বিহীন লাল মাংস, সামুদ্রিক খাবার, ডিম, বাদাম, পূর্ণ খাদ্যশস্য, শুকনো ফল, কলা, জলপাই, কাঁচকলা, পেয়ারা, সফেদা, কচু শাক, পালং শাক-সহ, সবুজ পাতাযুক্ত শাক-সবজি এবং ডাল-মটরশুঁটি-বীজ জাতীয় দানাদার শস্য। জানা চাই যে, উদ্ভিদজাত যেসব খাবার থেকে আমরা আয়রন পাই সেগুলো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার (যেমন : সাইট্রাস ফল ও ফলের রস, জাম, মরিচ, ব্রকালি, বাধাকপি, টমেটো, আম, কিউই, পেঁপে ইত্যাদি) সহযোগে খেলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ আয়রন শোষণ করতে পারে।
মেডিকেল কাউন্সিলর অ্যান্ড মোটিভিয়ার, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন
ড. বিজন কুমার শীল বিস্তারিত
বিপরীত স্রোত প্রতিবেদন বিস্তারিত
ডা. আহমদ মরতুজা চৌধুরী বিস্তারিত
যারিন মালিয়াত অদ্রিতা বিস্তারিত
মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান বিস্তারিত
মুস্তাকিম আহমেদ বিস্তারিত
সাংবাদিক শফিক রেহমানের পুরো বক.. বিস্তারিত
উৎপাদিত মাছের প্রায় ১২ শতাংশ আ.. বিস্তারিত
বাতিলযোগ্য সাইবার নিরাপত্তা আই.. বিস্তারিত